ভৌগোলিক এরাটোস্থেনিস প্রথম "Geography" শব্দটি ব্যবহার করে পড়াশোনার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন । তিনি সর্ব প্রথম স্টেডিয়া পদ্ধতি প্রয়োগ করে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয়ের চেষ্টা করেন । তিনিই প্রথম সঠিক ভাবে পৃথিবীর অক্ষের হেলন বা Tilt of the Earth’s axis নিরূপণ করেন এবং পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব , লিপইয়ার প্রভৃতি গণনা করেন । এমনকি , তিনিই প্রথম দ্রাঘিমারেখা ও অক্ষরেখা বিশিষ্ট তৎকালীন বিশ্বের মানচিত্র অঙ্কন করেন ।
এরাটোস্থেনিস বৈজ্ঞানিক কালপঞ্জি (scientific chronology) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন । তিনি ট্রয় এর বিজয় থেকে প্রধান সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তারিখ সংশোধন করে বর্ণনা করেছেন । সংখ্যা তত্ত্বেও ওনার অবদান রয়েছে , তিনি মৌলিক সংখ্যা নির্ণয়ের এক বিশেষ পদ্ধতি আবিস্কার করেন ।
টারডিগ্রেড একটি আণুবীক্ষণিক জলজ জীব । জলের বাইরে এরা দেহকে একটি শক্ত গোলাকার আকৃতির রূপ প্রদান করে যা তুন ( Tun ) নামে পরিচিত । Cryptobiosis পদ্ধতিতে এরা শুষ্ক পরিবেশে দীর্ঘ কাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে । এদের দেহ পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত , এবং আটটি পা ও সব পায়ে নখের মত অংশ রয়েছে । বিজ্ঞানী যোহান আগস্ট ইফ্রয়িম গোজ সর্বপ্রথম জার্মান ভাষায় এদের নাম রেখেছিলেন "Tardigrade kleiner Wasserbär" যার অর্থ - ছোট্ট জল ভাল্লুক । এখন পর্যন্ত প্রায় ১১৫০ ধরণের টারডিগ্রেট প্রজাতি খুজে পাওয়া গিয়েছে । প্রায় -২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতে ও এরা বেঁচে থাকতে পারে । ২০০৭ ও ২০১১ সালে এদেরকে মহাকাশে পরীক্ষামূলক ভাবে পাঠানো হয়। এরাই পৃথিবীর এক মাত্র জীব যারা মহাকাশে দীর্ঘদিন সময় কাটিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে এসেছে । আরও জানতে ক্লিক করুনঃ- http://en.wikipedia.org/wiki/Tardigrade ,
পৃথিবী সৃষ্টির প্রকৃত কারন সম্পর্কে এখনও কোনো
সর্বজন গ্রাহ্য মতবাদ নেই । তবে যে সব মতবাদ পৃথিবীর বেশিরভাগ বিজ্ঞানীদের কাছেজনপ্রিয়
হয়েছিল সেগুলি যেমন - নীহারিকা মতবাদ / Nebular Hypothesis(Fig) :- নীহারিকা বা Nebula(e.g. Helix Nebula-Fig) ,শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে সৃষ্ট যার অর্থ কুয়াশা বা মেঘ । জ্যোতির্বিদ্যায় মহাকাশের উজ্জ্বল বস্তু সমূহের সমন্বয়ে গঠিত পুজ্ঞিভূত রুপকে বলা হয় নীহারিকা । এমানুয়েল স্বডেনবার্গ- সুইডিশ বিজ্ঞানী এমানুয়েল স্বেডেনবার্গ ১৭৩৪ সালে তার "Principia -The First Principles of Natural Things"গ্রন্থের"Solar and Planetary Nebular Matter" প্রবন্ধে সৌরজগত সৃষ্টি রহস্যের কারন ব্যাখ্যা করতে সর্বপ্রথম এই তত্ত্বটির প্রকাশ করেন। বিজ্ঞানী স্বেডেনবার্গ ২৯শে জানুয়ারী, ১৬৮৮ সালে ষ্টকহোমে জন্মগ্রহন করেন । বহুল জনপ্রিয় এই নীহারিকা তত্ত্বটি বর্তমানে Solar Nebular Disk Model (SNDM) অথবা সরল ভাবে Solar Nebular Model নামেও খ্যাত।
জর্জ ডি বুফন এর মতবাদঃ-
জর্জ-লুইল্যক্লের, কোঁতদ্যবুফোঁছিলেন একজন ফরাসি প্রকৃতিবিদ, গণিতজ্ঞ,জীববিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ
। ১৭০৭ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী ১৭৭৮ সালে তাঁর “Les époques de la
nature” গ্রন্থে সৌর জগত তথা পৃথিবী সৃষ্টি সম্পর্কে মতবাদ প্রকাশ
করেন । তাঁর মতে অতীতের কোন এক সময় বিশালাকার এক ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি আসায়
সূর্য থেকে কিছু অংশ খুলে যায় , কিন্তু ধূমকেতুটি দ্রুত বেগে অন্যত্র চলে যাওয়ায়
সূর্য থেকে খুলে যাওয়া অংশ গুলি পরবর্তী
কালে সূর্যের চারপাশেই ঘুরতে শুরু করে এবং
সে গুলিই ধীরে ধীরে নানা গ্রহ উপগ্রহে পরিণত হয় । অর্থাৎ গ্রহ উপগ্রহ গুলি সূর্যের উপাদান দিয়েই
তৈরি । বিজ্ঞানী বুফন / বুফোঁ পরীক্ষাগারে লোহার শীতলতার হার
পরীক্ষা করে নির্ণয় করেন পৃথিবীর বয়স প্রায় ৭৫০০০ বছর এবং এটি প্রায় ৪০০৪ বি সি
পূর্বে সৃষ্ট । কিছু কিছু বিজ্ঞানী বুফেনের মতবাদকে গুরুত্ব দিলেও এটি
সর্বজনগ্রাহ্য হয়নি । তবে তাঁর মতবাদের সূত্র ধরেই পরবর্তী কালে বিজ্ঞানী
চেম্বারলিন ও মুল্টনের গ্রহকনিকা মতবাদ বা আপাত সংঘর্ষ সুত্রের জন্ম হয় ।