পৃষ্ঠা

স্বাগতম। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য । আমাদের ব্লগে মতামত জানাতে মেল করুন "shikhyajagot@gmail.com" ঠিকানায় । ২৫/০৯/২০১৩, ধন্যবাদ

বিষয় খুজেতে এখানে লিখুন

Monday, May 6, 2019

গ্রীক দার্শনিক অ্যানাক্সিম্যান্ডার


Anaximander / অ্যানাক্সিম্যান্ডার  ছিলেন গ্রীক দার্শনিক থেলিসের যোগ্য উত্তরসূরী। তিনি দর্শিনিক থেলিসের প্রতিষ্ঠিত মাইলেসিয়ান স্কুলে দর্শন , জ্যামিতি , জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি নানা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেছিলেন। এবং পরবর্তী কালে তিনি ওই স্কুলে থেলিসের পরবর্তী শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এরা দুজনেই ছিলেন গাণিতিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা ।
পিতা – মাতা এবং শিক্ষকঃ- দার্শনিক অ্যানাক্সিম্যান্ডারের পিতার নাম – প্রাক্সিয়াডেস । মাতার নাম – এখানে ব্যবহৃত কোন তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়নি । শিক্ষকের নাম – থেলিস ।
জন্ম-মৃত্যুঃ- অ্যানাক্সিম্যান্ডার ৬১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিসের মিলিটাসে জন্মগ্রহন করেন এবং ৫৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মিলিটাসেই মারা যান ।
শিক্ষা/জ্ঞানঃ- দার্শনিক অ্যানাক্সিম্যান্ডার দর্শনশাস্ত্র সহ গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল প্রভৃতি নানা বিষয়ে জ্ঞানী ছিলেন

পেশাঃ-
   অ্যানাক্সিম্যান্ডারের পরবর্তী কালের প্রায় সকল দার্শনিকদের মতে তিনি ছিলেন মাইলেসিয়ান স্কুলের শিক্ষক ।
            আবার, অনেকের মতে তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদ । মনে করা হয় তিনি, তদকালীন অ্যাপোলোনিয়া অঞ্চলে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীকালে সেখানকার অতিরিক্ত জন্মহার নিয়ন্ত্রন করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহন করেছিলেন ।
ছাত্র-ছাত্রীঃ- অ্যানাক্সিম্যান্ডারের বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন – অ্যানাক্সিমেন্স এবং পিথাগোরাস

দার্শনিক গ্রন্থঃ- অ্যানাক্সিম্যান্ডারের পরবর্তী কালের দার্শনিকদের বিবরণী থেকে জানা যায় , তিনি ছিলেন প্রথম দার্শনিক যে কিনা নিজের দার্শনিক চিন্তা-ভাবনা গুলি “ON NATURE” নামক গ্রন্থে কবিতার আকারে লিপিবদ্ধ করেছিলেন । তবে বইটির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি । দার্শনিক এরিস্টটল তাঁর Physics” বইয়ে অ্যানাক্সিম্যান্ডারের লিখিত বইটির কিছু অংশের উল্লেখ করেছেন । অনেকে মনে করেন লাইসিয়াম এবং তাওরমিনা লাইব্রেরীতে অ্যানাক্সিম্যান্ডারের লিখিত বইটি হয়তো রাখা ছিল ।    
ধারনা / অবদানসমূহঃ-
১) জড়বাদী এককবাদ – দার্শনিক থেলিসের মতো অ্যানাক্সিম্যান্ডারের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল জড়বাদী এককবাদ এবং তাঁর যুক্তি প্রদর্শনের পদ্ধতিকে দর্শনশাস্ত্রে বলা হয় বুদ্ধিগত জ্ঞান ।

২) এপিরন – অ্যানাক্সিম্যান্ডার তাঁর শিক্ষক থেলিসের মতো করে জলকে মহাবিশ্বের আদিতম বস্তু হিসাবে মনে করেননি । তাঁর মতে জল, বায়ু, মাটি, আগুন প্রভৃতি সকল কিছুই সীমিত , নির্দিষ্ট এবং পরিবর্তনশীল , তাই এগুলি মহাবিশ্বের আদি বস্তু হতে পারে না । তিনি মনে করেন সীমাহীন (Boundless),  অনির্দিষ্ট (Indefinite), চিরন্তন (Eternal) এবং যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় শুধু ধারনা বা বুদ্ধির দ্বারা উপলব্ধি করা যায় এমন বিষয় বা এপিরন (Apeiron) হল মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদি কারন ।

৩) পৃথিবীর মানচিত্র – তিনি সর্বপ্রথম কিছুটা স্কেল অনুসরন করে তদকালীন চেনা পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেছিলেন । তাঁর অঙ্কিত মানচিত্রটি ইউরোপ, লিবিয়া ( অর্থাৎ আফ্রিকা) এবং এশিয়া এই তিনটি অংশে বিভিক্ত ছিল , যার মাঝখানে ছিল গ্রীস এবং চারপাশে ছিল সমুদ্র । পরবর্তীকালে ঐ মানচিত্রটি আর পাওয়া যায়নি বলে ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের বর্ণনা অনুযায়ী দার্শনিক হেকাটিয়াসের অঙ্কিত মানচিত্রের উপর ভিত্তি করে অ্যানাক্সিম্যান্ডারের অঙ্কিত মানচিত্রের কাল্পনিক রূপ দেওয়া হয়েছে ।
৪) পৃথিবীর আকৃতি – তাঁর মতে পৃথিবীর আকৃতি গোল বা চাকতির মতো নয় , এটি দেখতে অনেকটা নল বা বেলনের মতো ।  
৫) পৃথিবী কেন্দ্রিক মহাবিশ্ব – পৃথিবী কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের প্রথম মানচিত্র অঙ্কন করেন অ্যানাক্সিম্যান্ডার । তাঁর মতে পৃথিবী , মহাবিশ্বের কেন্দ্রে ভাসমান অবস্থায় আছে এবং একে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন দূরত্বে অন্যান্য ‘তারকা’ , ‘চাঁদ’ এবং সব থেকে দূরে পৃথিবীর থেকে ২৯ গুন বড় ‘সূর্য’ অবস্থান করছে । 
৬) একাধিক বিশ্ব অনেকের মতে, অ্যানাক্সিম্যান্ডারের ধারনা ছিল বর্তমান মনুষ্য বসতিযুক্ত বিশ্বের পূর্বে মনুষ্য হীন অন্য বিশ্ব ছিল এবং বর্তমান বিশ্বের পরবর্তী কালেও অন্য আর একটি বিশ্ব থাকবে ।
৭) মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য – মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্যের কারন ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে অ্যানাক্সিম্যান্ডারই প্রথম কোনো ঐশ্বরিক কারনের কথা না বলে অন্য কোন প্রাকৃতিক কারনের কথা বলেছিলেন । তাই অনেকের মতে তিনি ছিলেন মহাবিশ্ব বিদ্যার জনক । তিনি মনে করতেন সীমাহীন ক্ষেত্র বা এপিরনে উষ্ণতা ও শীতলতার পার্থক্যে পৃথিবী এবং একে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া আগুনের বিভিন্ন রিং গুলিতে যথাক্রমে অন্যান্য তারকা , চাঁদ এবং সূর্যের সৃষ্টি হয়েছে । তাঁর মতে আদিতে বিশ্ব ছিল বাষ্পময় , এই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে সমুদ্র , শুষ্ক হয়ে ভূমি এবং অবশিষ্টাংশ বায়ুমণ্ডলে পরিণত হয়েছে ।     
৮) বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ সৃষ্টির কারন – তাঁর মতে বায়ুর সাথে বায়ুর সংঘর্ষের ফলে বিদ্যুৎ ঝলকানি এবং মেঘের সাথে মেঘের সংঘর্ষের ফলে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয় ।
৯) বৃষ্টিপাত সৃষ্টির কারন তিনি মনে করতেন জল বাষ্পীভূত হয়ে ঊর্ধ্বাকাশে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টির সৃষ্টি হয় ।
১০) ভূমিকম্পের কারন – অ্যানাক্সিম্যান্ডারের মতে ভয়ঙ্কর বায়ুপ্রবাহের কারনে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয় ।
১১) নোমোন  তিনিই প্রথম ব্যাবিলনীয় দের আবিষ্কৃত তারাদের আপেক্ষিক অবস্থান ও সময় নির্ধারক যন্ত্র নোমোন কে “Gnomon”  কে মিলিটাসে নিয়ে এসেছিলেন ।

১২) বিবর্তনবাদ অ্যানাক্সিম্যান্ডার ছিলেন প্রাচীন গ্রীসের একজন বিবর্তনবাদী । তাঁর মতে জলেই সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর প্রথম প্রান । সূর্যের তাপে জলভাগ শুকিয়ে যাওয়ার সময় সেগুলি স্থলভাগে চলে আসে এবং ধীরে ধীরে তাদের শরীরে স্থলভাগে চলাচল করার জন্য উপযুক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উৎপত্তি হয়েছে । তিনি মনে করতেন মাছ জাতীয় প্রাণী বিবর্তিত হয়ে মানুষের রূপ ধারন করেছে । 

>>>> এই বিষয়ে ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন ।  <<<<

তথ্যসূত্র ঃ- 

1) ভূগোল দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা- ডঃ ক. মিত্র , ডঃ জে. সেন, ডঃ পূ, সেনগুপ্ত

2) ভূগোলদর্শন – জে. মুখোপাধ্যায়
3) ভূগোল চিন্তার বিকাশ – ক. লাহিড়ী দত্ত ।
4) Evolution of Geographical Thought - Majid Husain , 2004, Page No.- 33 - 34
5) https://roar.media/bangla/main/biography/the-first-astronomer-of-the-world-who-
float-the-world-from-the-back-of-tortoise/
6) https://www.somewhereinblog.net/blog/nillkosto420/30073513
7) http://www.thebdsf.com/
8) http://itibritto.com/greek-philosophers-1/
9) http://www.roddure.com/biography/anaximander/
10) https://en.wikipedia.org/wiki/Anaximander
11) https://www.famousscientists.org/anaximander/
12) https://www.philosophybasics.com/philosophers_anaximander.html
13) http://www.informationphilosopher.com/solutions/philosophers/anaximander/
14) http://www.philosophy.gr/presocratics/anaximander.htm
15) https://abagond.wordpress.com/2015/04/06/anaximander/
16) https://kosmossociety.chs.harvard.edu/?p=34798
17) https://www.iep.utm.edu/anaximan/
18) International Journal of Philosophy, 2013; ”Thales, Anaximander and Anaximenes as pathfinders ofmodern science” - Gabriel Ema Idang,  1(4): 57-65,
19) "The Notion of Cause in Anaximander", Thesis for the degree of Master in Philosophy - Atle Sperre Hermansen, University of Oslo, May 2005
20) "EARLY GREEK PHILOSOPHY" - JOHN BURNET , Page No.- 27 - 37
21) "THE FIRST SCIENTIST ANAXIMANDER AND HIS LEGACY" - CARLO ROVELLI, Translated by Marion Lignana Rosenberg, 2011.
22) Duquesne University, Duquesne Scholarship Collection, Electronic Theses and Dissertations, Fall 1-1-2016, "Early Greek Philosophy and the Discovery of Nature" - Justin Habash, December 2016
23) "Theology as the limit of science: Anaximander’s discovery of metaphysics and the Milesian concept of divinity"
by Kosta Gligorijevic, A Thesis presented to The University of Guelph, Guelph, Ontario, Canada, August, 2013
24) https://www.phas.ubc.ca/~stamp/TEACHING/PHYS340/NOTES/FILES/
Pre-Socratics05.pdf
25) https://history-biography.com/anaximander/
26) https://www.globalsecurity.org
27) https://sitejerk.com
28) www.google.com
 ----------------- x -----------------

Monday, October 8, 2018

লাতিন আমেরিকা

#পরিচয় - 
              উত্তর , মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের রোমানীয় ভাষা মূলত স্পেনীয়, ফরাসী ও পর্তুগিজ ভাষা সমৃদ্ধ দেশ গুলি একত্রে লাতিন আমেরিকা নামে পরিচিত ।

#দেশ সমূহ - 
                উত্তর আমেরিকার ১ টি দেশ - মেক্সিকো
                ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ৩টি দেশ - কিউবা, হাইতি, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র
                মধ্য আমেরিকার ৬টি দেশ - পানামা, এল সালভাদর, গুয়েতেমালা, হুন্ডুরাস, নিকারাগুয়া এবং কোস্টারিকা
          দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশ - আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়ে এবং ভেনেজুয়েলা

# শব্দটির প্রথম ব্যবহার - 
                                   চিলির রাজনীতিবিদ ফ্রান্সিসকো বিলবাও ১৮৫৬ সালে "Initiative of the America. Idea for a Federal Congress of Republics" শীর্ষক সম্মেলনে "Latin America" শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ।
# গুরুত্বপূর্ণ শহর সমূহ - 
                                    মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, কারাকাস, গুয়াদালাহারা , ব্রাজিলের সাঁউ পাউলু , বেলো হরিজন্তে, রিয়ো দি জানেইরু, আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেস, পেরুর লিমা, কলম্বিয়ার বোগোতা, চিলির সান্তিয়াগো প্রভৃতি ।

Saturday, October 6, 2018

কর্ডিলেরা কী ?

উত্তরঃ- বিভিন্ন উচ্চতার পাহাড় পর্বত বিশিষ্ট বিস্তীর্ণ পার্বত্য ভূভাগকে কর্ডিলেরা বলে । 'কর্ডিলেরা' শব্দটি  স্প্যানিশ কর্ডিলা ("কর্ড," বা "দড়ি") থেকে এসেছে । কর্ডিলেরায় পাহাড় পর্বত সাধারণত সমান্তরাল বা প্রায় সমান্তরাল ভাবে অবস্থান করে । আমেরিকা ও ইউরেশিয়ার

এক বিশেষ ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হল কর্ডিলেরা । বিভিন্ন কর্ডিলেরা গুলি যেমন - উত্তর ইরানের এলবোর্জ কর্ডিলে্রা , লাওস এবং পূর্ব ভিয়েতনামের অ্যানামিস কর্ডিলেরা , কানাডীয় অঞ্চলে আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত বরাবর অবস্থিত আর্কটিক কর্ডিলেরা, স্পেনের বেইটিক কর্ডিলেরা , নিউ গিনি উচ্চভূমি বা সেন্ট্রাল কর্ডিলেরা, ফিলিপাইনের কর্ডিলেরা প্রশাসনিক অঞ্চল (Cordillera Administrative Region - CAR), ভেনিজুয়েলার কর্ডিলের দে মরিদা, দক্ষিণ আমেরিকার কর্ডিলেরা দে লস এন্ডিস, চিলিয়ান কোস্ট রেঞ্জ বা কর্ডিলেরা দে লা কোস্টা , গ্রেট ডিভিডিং রেঞ্জ বা পূর্ব অস্ট্রেলিয়ান কর্ডিলেরা, মেক্সিকান কর্ডিলেরা, উত্তর আমেরিকান কর্ডিলেরা ,
কর্ডিলেরা সেন্ট্রাল, বেশ কয়েকটি পর্বত রেঞ্জ এই নামে পরিচিত , যেমন -  ফিলিপাইনের কর্ডিলেরা সেন্ট্রাল (লুজন) , স্পেনের কর্ডিলেরা সেন্ট্রাল,  কোস্টারিকার কর্ডিলেরা সেন্ট্রাল, বলিভিয়ার কর্ডিলের সেন্ট্রাল , প্রভৃতি ।

Wednesday, August 15, 2018

Isoline - সমমান রেখা


সংজ্ঞাঃ- ভূপৃষ্ঠীয় উচ্চতা , বায়ুমন্ডলীয় উষ্ণতা , চাপ, বৃষ্টিপাত অথবা অন্য কোন বিষয়ের সমান মান বিশিষ্ট স্থান গুলিকে মানচিত্রে কোন কাল্পনিক রেখা দিয়ে যুক্ত করা হলে সেই কাল্পনিক রেখাকে বলা হয় সমমান রেখা বা Isoline  .
  এখানে Iso শব্দের অর্থ সমান আর Line শব্দের অর্থ রেখা ।
সমমান রেখা গুলি পরস্পর সমান্তরাল এবং এগুলি সাধারনত একে অপরকে কখনই ছেদ করে না তবে ভৃগু ও জলপ্রপাতের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানের রেখা গুলি পরস্পরে স্পর্শ করে থাকে ।
প্রকারভেদঃ-
১) সমোন্নতি রেখা (Contour)  
২) সমোষ্ণরেখা (Isotherm)
৩) সমচাপ বা সমপ্রেষ রেখা (Isobar)
৪) সমবর্ষণ রেখা (Isohyet)
৫) সমলবনতা রেখা (Isohaline)
৬) সমমেঘ রেখা (Isoneph)
৭) সমুদ্রের সমগভীরতা রেখা (Isobath)
৮) ভূ গর্ভস্থ সমোষ্ণরেখা (Isogeotherm)
৯) সমভূকম্পীয় তীব্রতা রেখা (Isoseismal)
১০) পরিবহনের সমসময় রেখা (Isochrone) , প্রভৃতি ।
গুরুত্বঃ-
১) সমমান রেখা মানচিত্রের দ্বারা কোন স্থানের উচ্চতা, উষ্ণতা , বায়ুচাপ , বৃষ্টিপাত সম্পর্কে জানা যায় ।
২) কোন স্থানে সড়কপথ অথবা রেলপথ স্থাপনের সময় সমমান বা সমোন্নতি রেখা বিশিষ্ট টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রের সাহায্যে বিভিন্ন স্থানের উচ্চতার পার্থক্য জানা যায় ।
৩) বাঁধ নির্মাণ , সেতু নির্মাণ , খাল খনন , বন্যা নিয়ন্ত্রন বা কলকারখানা স্থাপনের জন্যও সমমান মানচিত্রের গুরুত্ব রয়েছে ।
৪) আবহাওয়ার পূর্বাভাষ দেওয়া ।
৫) পাইপ লাইন স্থাপনে সুবিধা । প্রভৃতি ।
 আন্তঃক্ষেপণ বা  Interpolation পদ্ধতিতে সমমান মানচিত্র অঙ্কন পদ্ধতি ......



Sunday, March 4, 2018

ইনডেক্স সাইকেল ( Index Cycle )


জেট বায়ু প্রবাহে ( জেট বায়ু – র সরলরৈখিক প্রবাহ থেকে আঁকাবাঁকা সর্পিলাকার প্রবাহে রূপান্তর অবধি নির্দিষ্ট সময়টিকে (৪-৬ সপ্তাহ) ইনডেক্স সাইকেল (Index Cycle) বলা হয় ।

জেট বায়ুপ্রবাহের উৎপত্তি থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত এই ইনডেক্স সাইকেল (Index Cycle) তথা জীবনচক্রকে মোট চারটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয় । যথা –

ক) প্রথম পর্যায়ঃ জেট বায়ুপ্রবাহের জীবনচক্রের প্রথম পর্যায়টি হাই জোনাল ইনডেক্স (High Zonal Index) নামে পরিচিত, কারণ এই পর্যায়ে জেট বায়ুর গতিবেগ খুবই বেশী থাকে । এই সময় উত্তর-দক্ষিণে বায়ুচাপের ঢাল খুব বেশী হয় । নিম্ন অক্ষাংশ ও উচ্চ অক্ষাংশের মধ্যে বায়ুপুঞ্জের বিনিময় প্রায় হয়ই না । জেট বায়ু মেরু অঞ্চলের নিকটবর্তী অংশে অবস্থান করে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হতে থাকে । এর উত্তরে শীতল মেরু বায়ু ও দক্ষিণে মৃদু ঊষ্ণ বায়ু বিরাজ করে ।

খ) দ্বিতীয় পর্যায়ঃ দ্বিতীয় পর্যায়ে জেট বায়ুর গতিবেগ ১৫০-২৫০ কিলোমিটার / ঘন্টা হয়ে থাকে । জেট বায়ু রসবি তরঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে নিরক্ষরেখার দিকে সম্প্রসারিত হতে থাকে । ফলস্বরূপ, পূর্বোক্ত শীতল বায়ু দক্ষিণে ও ঊষ্ণ বায়ু উত্তরে স্থানান্তরিত হতে থাকে ।
গ) তৃতীয় পর্যায়ঃ এই পর্যায়ে জেট বায়ুর গতিবেগ ২৫০-২২০ কিলোমিটার / ঘন্টা হয়ে থাকে । জেট বায়ুর বক্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হয়ে পড়ে । ফলস্বরূপ, পূর্বোক্ত শীতল বায়ু ক্রমশঃ আরও দক্ষিণে ও ঊষ্ণ বায়ু আরও উত্তরে স্থানান্তরিত হতে থাকে । তাপীয় অবক্রম পূর্ব থেকে পশ্চিমে হয় এবং ৩/৬ টি রসবি তরঙ্গ পৃথিবীকে বেষ্টন করে ।
এবং 
ঘ) চতুর্থ পর্যায়ঃ জেট বায়ুর জীবনচক্রের এই চতুর্থ পর্যায়টি লো জোনাল ইনডেক্স (Low Zonal Index) নামে পরিচিত, কারণ এই পর্যায়ে জেট বায়ুর গতিবেগ একদমই কমে যায় । এটি জেট বায়ুর জীবনচক্রের শেষ পর্যায় । এই পর্যায়ে জেট বায়ুর তরঙ্গের বক্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছোটো ছোটো কক্ষ গঠন করে । কক্ষ গঠনের ফলে শীতল মেরু বায়ু মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঊষ্ণ হালকা বায়ু দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে অবস্থান করে এবং অন্যদিকে উষ্ণ ক্রান্তীয় বায়ু মেরু অঞ্চলে শীতল বায়ু দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে অবস্থান করতে থাকে । ক্রমশঃ বিচ্ছিন্ন কক্ষগুলি গঠনের মধ্য দিয়ে গতিবেগ হ্রাস পেতে পেতে এই পর্যায়ের শেষভাগে জেট বায়ুর জীবনচক্রের পরিসমাপ্তি ঘটে ।)

Wednesday, July 9, 2014

Simple Conical Projection With one Sp

সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ ( এক পরিমিত অক্ষরেখা ) 

(চিত্রানুগ পদ্ধতি /  Graphical Construction ) 




Tuesday, July 8, 2014

GRAPHICAL CONSTRUCTION OF CYLINDRICAL EQUAL AREA PROJECTION

সিলিন্ড্রিক্যাল ইক্যুয়াল এরিয়া প্রজেকশনের চিত্রানুগ অংকন পদ্ধতি